২০২৬ বিশ্বকাপে কি খেলবেন নেইমার? যা জানালেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে? ইনজুরি আর দীর্ঘ বিরতির পর নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে সম্প্রতি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক বড় আপডেট দিয়েছেন।
নেইমারের জন্য ২ মাসের চ্যালেঞ্জ
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। তবে দলে জায়গা করে নিতে হলে তাকে আগামী দুই মাসের মধ্যে নিজের পূর্ণ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। বর্তমানে নেইমার তার ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন এবং গোলও পাচ্ছেন, যা ব্রাজিল ভক্তদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
আনচেলত্তির কড়া বার্তা: "শুধু ফিটরাই সুযোগ পাবে"
নেইমারের প্রতিভা নিয়ে কোচের কোনো সন্দেহ নেই। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন:
"নেইমার একজন অসাধারণ প্রতিভা। সে আমাদের বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করতে পারে—এমনটা ভাবা স্বাভাবিক। তবে আমার নীতি পরিষ্কার, আমি শুধু শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই দলে নেব। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য তার হাতে এখনো দুই মাস সময় আছে।"
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার লড়াই
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর হাঁটুতে চোট পান নেইমার। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল ছেড়ে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে নিয়মিত খেলছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন।
পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা
ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৯টি গোল করা এই তারকার বর্তমান বয়স ৩৪ বছর। বাজিকর ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষণা হতে যাওয়া ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াডের ওপর।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মিশন
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে 'সি' গ্রুপে লড়বে ব্রাজিল। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে সেলেসাওরা।
উপসংহার:
নেইমার কি পারবেন ইনজুরির বাধা পেরিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে সাম্বার জাদু দেখাতে? উত্তরটা তোলা থাকল আগামী দুই মাসের পারফরম্যান্স আর ভাগ্যের ওপর। তবে কোটি ভক্তের প্রার্থনা—শেষবারের মতো হলেও বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যেন নেইমারের হাতেই ওঠে।
