প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকবেন যেভাবে: ১০টি কার্যকরী ঘরোয়া টিপস
তীব্র দাবদাহ বা হিটওয়েভ চলাকালীন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং পেটের সমস্যার মতো নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। সামান্য কিছু সচেতনতা এবং ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে এই গরমেও নিজেকে সতেজ রাখা সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। তৃষ্ণা না পেলেও কিছুক্ষণ পরপর পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাইরে বের হলে সবসময় সাথে পানির বোতল রাখুন।
২. স্যালাইন ও প্রাকৃতিক পানীয়
অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এটি পূরণে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা খাওয়ার স্যালাইন পান করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কৃত্রিম জুস বা কোল্ড ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলাই ভালো।
৩. সহজপাচ্য ও হালকা খাবার
এই সময় তেল-মসলাযুক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার হজমে সমস্যা করে। তাই দুপুরের খাবারে পাতলা ডাল, সবজি এবং মাছের মতো হালকা খাবার রাখুন। টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে।
৪. সুতির ঢিলেঢালা পোশাক
গরমে গাঢ় রঙের সিন্থেটিক কাপড় না পরে হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং শরীরকে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে।
৫. রোদ এড়িয়ে চলুন
চেষ্টা করুন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যেতে। যদি প্রয়োজনে বাইরে যেতেই হয়, তবে অবশ্যই ছাতা, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
৬. চা ও কফি পরিহার
অতিরিক্ত চা বা কফি শরীরকে পানিশূন্য (Dehydrate) করে ফেলে। গরমের দিনে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।
৭. ঠান্ডা পানিতে গোসল
দিনের ক্লান্তির পর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন। এটি শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আপনাকে প্রশান্তি দেবে। তবে খুব রোদ থেকে এসেই সাথে সাথে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করবেন না।
৮. নিয়মিত ফল খাওয়া
গরমে তরমুজ, শসা, বাঙ্গি বা মাল্টার মতো জলীয় অংশ বেশি এমন ফল বেশি করে খান। এগুলো শরীরে পানির অভাব পূরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন যোগায়।
৯. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
গরমের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাতে পর্যাপ্ত (৭-৮ ঘণ্টা) ঘুম নিশ্চিত করুন।
১০. হিট স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝুন
যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
